তীব্র তাপদাহ আর তার সাথে ঘন ঘন লোডশেডিং—এ দুইয়ের জাঁতাকলে পড়ে ব্যাহত হচ্ছে গ্রামীণ অঞ্চলের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। ক্লাসরুমের ভেতরে প্রচণ্ড গরম এবং বিদ্যুতের অনুপস্থিতির কারণে বাধ্য হয়ে গাছের ছায়ায় খোলা মাঠে বেঞ্চ পেতে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও বাস্তবচিত্র
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে বিশেষ করে টিনের চালের শ্রেণিকক্ষগুলো যেন একেকটি উত্তপ্ত কক্ষে পরিণত হয়। দেশের বেশ কিছু উপজেলায় দেখা গেছে, বিদ্যুৎ না থাকায় পাখাও ঘোরে না, ফলে ঘরের ভেতরে অস্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেক স্থানে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ার উপক্রম হলে শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে মাঠের বড় গাছের ছায়ায় পরীক্ষা ও পাঠদানের ব্যবস্থা করেন।
গাছের নিচে প্রাকৃতিকভাবে কিছুটা বাতাস পাওয়া গেলেও এই দৃশ্য মূলত গ্রামীণ অবকাঠামোর একটি করুণ ছবি ফুটিয়ে তোলে।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও দাবি
বিষয়টি নিয়ে সচেতন অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে:

শিক্ষকদের উদ্যোগ: প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও পরীক্ষা স্থগিত না করে বিকল্প উপায়ে খোলা মাঠে পরীক্ষা সম্পন্ন করায় অনেকে শিক্ষাদাতাদের এই ভূমিকাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন।

বিদ্যুৎ বিভাগের অবহেলা: একই সময়ে গ্রাম ও মফস্বলে টানা লোডশেডিং এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরীক্ষার মতো সংবেদনশীল সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখা অথবা অন্তত বিকল্প আলোর ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা ও মনোযোগ অক্ষুণ্ন থাকে।

Leave a Reply