২৬ মার্চ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। এই দিনটি বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনা দিবস, মহান স্বাধীনতা দিবস। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয় এবং শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ, যা দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

স্বাধীনতার পেছনের ইতিহাস

বাংলাদেশ একদিনে স্বাধীন হয়নি। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম, আন্দোলন ও ত্যাগের ইতিহাস। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হয়। পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) ও পশ্চিম পাকিস্তান এক দেশ হলেও ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক দিক থেকে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ওপর বৈষম্য করা হতো।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পরও বাঙালিদের হাতে ক্ষমতা না দেওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অবশেষে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গণহত্যা চালায়, যা ইতিহাসে “কালরাত” নামে পরিচিত।

২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়। এই ঘোষণার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়। সারা দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিক, পুলিশ, সেনা—সব শ্রেণির মানুষ দেশ স্বাধীন করার জন্য যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান মুক্তিযোদ্ধাদের। তারা নিজেদের জীবন, পরিবার, ভবিষ্যৎ সবকিছু ত্যাগ করে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন।

Leave a Reply