কালকিনি প্রতিনিধি:
গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথের ওপর থাকা পুরোনো কালকিনি ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে সেতুটি সরু ও পুরোনো হওয়ায় প্রতিদিনই যানবাহন চলাচলে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে সেতুর ওপর যানজট সৃষ্টি হয়ে সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রিজটির দুই পাশে জায়গা খুবই অল্প। ফলে পাশাপাশি দুটি বড় যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে না। একদিকে বাস বা বড় কোনো গাড়ি উঠলে বিপরীত দিকের যানবাহনকে অপেক্ষা করতে হয়। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই সেতুর দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।

সম্প্রতি সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টা ব্রিজের দুই পাশে যানজট দেখা যায়। এর মধ্যে একটি মাহেন্দ্র ও আরেকটি যানবাহন একই সময়ে ব্রিজে ওঠার পর ব্রিজের মাঝামাঝি গিয়ে আটকে পড়ে। এতে দুই দিকের যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায় এবং সেতুর উভয় পাশে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে।

বিশেষ করে বাস সেতুতে ওঠার সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। অনেক সময় একটি বাস পার হওয়ার জন্য বিপরীত দিকের যানবাহনকে ১০ থেকে ১৫ মিনিট, কখনো তারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী, নারী, শিশু ও দূরপাল্লার যাত্রীরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কপথে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন চলাচল করলেও ব্রিজটির অবস্থা ও ধারণক্ষমতার সঙ্গে বর্তমান যানবাহনের চাপের কোনো সামঞ্জস্য নেই। পুরোনো ও সরু সেতুটিতে একসঙ্গে দুইটি যানবাহন চলাচল করতে না পারায় সামান্য অসতর্কতা বা একটি গাড়ি আটকে গেলেই পুরো সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।

শুধু যানজট নয়, সরু ব্রিজের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস বা অন্যান্য জরুরি যানবাহনকে দ্রুত পার হতে হলে যানজট বড় ধরনের সমস্যার কারণ হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সমস্যাটি নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি নিয়ে ভোগান্তি থাকলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে একটি আধুনিক, প্রশস্ত ও যানবাহন চলাচলের উপযোগী নতুন সেতু নির্মাণ অথবা পুরোনো সেতুটির দ্রুত সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা এখন সময়ের দাবি।

তাদের মতে, কালকিনি ব্রিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনার ভবিষ্যৎ যানবাহনের চাপ বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করা জরুরি। শুধু সাময়িকভাবে যানজট নিয়ন্ত্রণ নয়, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য প্রয়োজন একটি প্রশস্ত ও নিরাপদ সেতু।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এতে প্রতিদিনের যানজট ও মানুষের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ আরও নিরাপদ ও স্বাভাবিক হবে।

Leave a Reply