বিশেষ প্রতিনিধি, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর দশমিনায় একটি স্মার্টফোন বা ‘আইফোন’ কেনার বায়না মেটাতে দেড় বছরের নিজের কোলের শিশুসন্তানকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তবে খবর পাওয়ার পরই পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন তৎপর হয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। ঘটনার বিবরণ: পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামের কাঠমিস্ত্রি মো. মারুফ মুন্সি তার দেড় বছরের শিশুপুত্র মুসাকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও তারা বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে জানা যায়, মারুফ তার সহকর্মী ইমরান হোসেনের কাছে এক লাখ টাকার বিনিময়ে সন্তানকে লিখিতভাবে তুলে দিয়ে সেই টাকা নিয়ে ঢাকায় চলে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা ঢাকার আত্মীয়দের সহায়তায় জানতে পারেন, সন্তান বিক্রির অর্থ এবং নিজের পুরোনো ফোন মিলিয়ে মারুফ একটি নতুন আইফোন কিনেছেন। ক্রেতার বক্তব্য ও পারিবারিক দূরত্ব: শিশুকে নেওয়ার কথা স্বীকার করে ইমরান জানান, তার শ্বশুরের কোনো ছেলেসন্তান ছিল না। মারুফ দীর্ঘদিন ধরেই তার সন্তানকে তাদের কাছে হস্তান্তরের কথা বলছিলেন। পরবর্তীতে পারিবারিক আলোচনার মাধ্যমে এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে তারা গ্রহণ করে গলাচিপা উপজেলার চর কাজলে পাঠায়। স্বজনদের তথ্য মতে, পারিবারিক বিভিন্ন কলহের জেরে মারুফের স্ত্রী আগেই বাবার বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন এবং এরপর থেকেই শিশুটি দাদির কাছে বেড়ে উঠছিল। পুলিশি তৎপরতা ও শিশু উদ্ধার: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে দশমিনা থানা পুলিশ অভিযানে নামে। বিশেষ কৌশলে অভিযান চালিয়ে চর কাজল থেকে শিশু মুসাকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসা হয়। প্রশাসনের পদক্ষেপ: দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলামের উপস্থিতিতে উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে তার দাদা মফিজ মুন্সী ও দাদী মাহফুজা বেগমের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এবং তার নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই অমানবিক ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। Like this:Like Loading… Related Post navigation প্রতিশ্রুতির বিপরীতে বাস্তব চিত্র: ছয় মাসে কারখানা বন্ধ ও চাকরি হারানোর শঙ্কায় শ্রমিকরা পোনা অবমুক্তকরণে বারবার একই অব্যবস্থাপনা: সচেতনতার অভাবে ঝরল অবলা জীবের প্রাণ