আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। ইরান ও ইসরাইলের সরাসরি সামরিক মুখোমুখি অবস্থান এখন পুরো অঞ্চলকে অস্থির করে তুলেছে। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে, ইরানের হামলায় ৬ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন।

একাধিক দেশে ইরানের সমন্বিত হামলা

সোমবার (২ মার্চ) দিবাগত রাত থেকে ইরান ইসরাইলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। রাজধানী তেল আবিবসহ একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

শুধু ইসরাইলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি তেহরানের অভিযান। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। কাতারের দোহা এবং কুয়েতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্রিয় রয়েছে।

অন্যদিকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর ভবনের একটি অংশে আগুন ধরে যায় বলে জানা গেছে।

“মোজাইক কমব্যাট” কৌশলে ইরান

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বর্তমানে বিকেন্দ্রীভূত কমান্ড কাঠামোর মাধ্যমে ‘মোজাইক কমব্যাট’ কৌশল প্রয়োগ করছে। অর্থাৎ, ভিন্ন ভিন্ন কমান্ড স্টেশন থেকে হঠাৎ ও বিচ্ছিন্ন হামলা চালিয়ে প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) হুঁশিয়ারি দিয়েছে—মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মার্কিন তেলবাহী ট্যাঙ্কার নজরে এলে সেগুলোতেও হামলা চালানো হতে পারে।

পাল্টা হামলায় সক্রিয় ইসরাইল

ইরানের হামলার জবাবে পাল্টা আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। তেহরান ও বৈরুতে লক্ষ্য করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) দাবি করেছে, বৈরুতে অভিযানে ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের এক শীর্ষ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবনেও হামলার ঘটনা ঘটে।

এদিকে লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ এবার সরাসরি ইরানের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ফলে ইসরাইলকে এখন একাধিক ফ্রন্টে লড়াই করতে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান

যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত সংঘাতে ৬ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। তবে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, এই মুহূর্তে ইরানে সরাসরি সেনা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানা গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত।

সামগ্রিক পরিস্থিতি

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক মহল সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগের আহ্বান জানালেও এখনো কার্যকর সমাধানের ইঙ্গিত মিলছে না।

যুদ্ধের বিস্তার এবং বহুপাক্ষিক জড়িত থাকার কারণে পরিস্থিতি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Reply