যে হাতের ছোঁয়াতে প্রথম জীবন পেলাম,

অন্ধকার ঘরে আলো হয়ে সে এলো নীরব সন্ধ্যায়।

পৃথিবীতে আপন বলতে কেউ ছিল না আমার,

সে এসে স্বপ্ন এঁকেছিল ভাঙা হৃদয়ের জানালায়।

তার আশ্রয়ে কেটেছে কত রঙিন বিকেল,

তার হাসিতে ফুটেছে আমার অনন্ত সকাল।

ধীরে ধীরে কোন এক অজানা মুহূর্তে,

তার প্রেমে পড়েছি—নিজেও ছিলাম না সে খবরের দালাল।

তার রূপ ছিল নীল আকাশের মতো গভীর,

তার শরীরের গন্ধে মাতাল হতো মন।

তার চোখের চাহনিতে হারিয়ে গিয়ে ভাবতাম—

এই বুঝি পেলাম আমার চিরদিনের জীবন।

কখনো বলা হয়নি ভালোবাসার কথা,

চেপে রেখেছিলাম বুকের গোপন কাঁপন।

হঠাৎ দেখি সে অন্য কারও সঙ্গী,

অন্য কারও হাতে রাখে তার আপন।

তাদের নতুন গল্প, নতুন পরিচয়,

আমার ভিতরটা তখন ভাঙা নৌকার মতো ডুবে যায়।

আমি বলেছিলাম—ভালোবাসি, আজও ভালোবাসি,

সে শুধু হেসে বলল—“তুমি তো বন্ধু, এর বেশি নয়।”

যা কিছু করেছে, নাকি দয়া আর মায়া,

আমি ভেবেছি সে-ই আমার ভালোবাসা।

তার মমতার ছায়াকে প্রেম বলে ভুল করে,

আজ আমি আবার নিঃস্ব, একা, উদাসা।

যে হাতের ছোঁয়াতে জীবন পেয়েছিলাম,

সেই হাতই আজ দূরের কোনো দ্বারে।

আমি দাঁড়িয়ে আছি শূন্যতার প্রান্তে,

হারানো প্রেমের স্মৃতি নিয়ে অন্ধকারে।

তবু জানো—

যদি কোনোদিন সে ফিরে তাকায়,

আমার বুকের ভাঙা ঘরে এখনো তারই নাম।

কারণ প্রেম তো হিসেব মানে না কখনো,

প্রেম মানে শুধু নিঃস্ব হয়েও ভালোবাসার অবিরাম।

Leave a Reply