🕊️ তার নাম ছিল আবুল কাশেম। তিনি একজন বাহারাইন প্রবাসী। বাংলাদেশ থেকে ২০১৭ সালে পাড়ি জমিয়েছিলেন এই দেশে। গত নয় বছর ধরে এই প্রবাসে ধীরে ধীরে নিজেকে একজন ঠিকাদার হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। ঠিকাদারের ব্যবসাটা তার ভালোই চলছিল। তবে কাজ নিয়ে তিনি সবসময়ই ভীষণ ব্যস্ত থাকতেন।

কাশেম শুধু নিজের কথাই ভাবতেন না। তিনি বন্ধু-বান্ধবকে অনেক সাহায্য করতেন। তার টাকা-পয়সা প্রায় সবই বন্ধুদের জন্য খরচ হয়ে যেত। গত এক বছর আগে তিনি নিজে ডাকে একটি এগ্রিমেন্ট করে একটি রুম নেন। সেই রুমে তার সঙ্গে থাকত তার বন্ধু মুন্না, শরীফ ও মহাসিন। এই বন্ধুদের অবস্থা ছিল খুবই বাজে—কাজ নেই, টাকা-পয়সা নেই। তাদের রুম ভাড়া ও খানা-খরচ সবই দিত এই কাশেম।

দীর্ঘ এক বছর ধরে কাশেম তাদের হেল্প করে এসেছে। তার বন্ধুরা কাজে যেত না, সারাদিন রুমেই পড়ে থাকত। কারেন্ট বিল ও রুম ভাড়া অনেক বেশি আসত, তারপরও কাশেম তাদের কিছু বলত না। শুধু রুম পার্টনার হিসেবেই নয়, কাশেম অনেক মেয়েকেও উপকার করত—টাকা-পয়সা দিয়ে সাহায্য করত।

কিন্তু হঠাৎ একদিন কাশেম পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। তার ভিসা ছিল বিজনেস ভিসা। সেই ঘটনার পর থেকেই কাশেমের জীবন পুরোপুরি বদলে যায়। এখন সেই কাশেম অনেক বিপদে আছে। এমনকি তার বন্ধুরাও রুম ভাড়া দেওয়ার টাকা দিতে চায় না।

কাশেমের এই অবস্থায় কাউকে পাশে পাচ্ছে না সে। এমনকি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু মুন্নাকেও পাচ্ছে না—সেও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আজ কাশেম কারাগারে বন্দি। একা একা তার জীবন চলে সেখানে—যে মানুষটা একদিন সবার জন্য নিজের সবটুকু বিলিয়ে দিয়েছিল, আজ সে-ই সবচেয়ে নিঃস্ব, সবচেয়ে একা।

এই গল্পটা শুধু একজন প্রবাসীর নয়—এটা বিশ্বাস, ত্যাগ আর নিঃসঙ্গতার নীরব কান্নার গল্প।

Leave a Reply