একটা ছেলে কখনো বাবাকে বলতে পারে না — “বাবা, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।” ভালোবাসাটা গলার কাছে এসে আটকে যায়, লজ্জা আর অভ্যাসের দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে ফিরে যায় ভেতরে। ছোটবেলায় বাবার সংসারে থাকতেই তার পৃথিবীটা ছিল নিরাপদ আর উজ্জ্বল। সকালে ঘুম ভাঙত বাবার ডাকে, সন্ধ্যায় ফিরত বাবার হাত ধরে। বাবার হাসিতে ছিল আশ্বাস, কণ্ঠে ছিল ভরসা, আর চোখে ছিল সন্তানের জন্য নিরব যুদ্ধের গল্প। তখন সে বুঝত না — এই সাধারণ মুহূর্তগুলোর ভেতরেই লুকিয়ে আছে জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। একদিন হঠাৎ সেই ছায়াটা হারিয়ে গেল। বাবাকে হারানোর দিনটি ছিল তার জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ রাত। সেই দিন থেকে হাসির শব্দগুলো কেমন যেন ভারী হয়ে গেল, ঘরের দেয়ালগুলো নিঃশব্দে কাঁদতে লাগল, আর ছেলের বুকের ভেতর জমে উঠল এক অদৃশ্য শূন্যতা। সে বুঝল, বাবার অভাব মানে শুধু একজন মানুষ হারানো নয় — জীবনের একটা দিকনির্দেশনা হারানো। কুড়ি বছর পেরিয়ে গেছে। তবু বাবাকে হারানোর ক্ষতটা আজও শুকায়নি। জীবনের প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে সে অবচেতনে খুঁজে ফেরে বাবার কণ্ঠ — “ভয় পাস না বাবা, আমি আছি।” কিন্তু সেই কণ্ঠ আর আসে না, শুধু স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে বাবার হাসিমুখ। আজ সে বুঝে গেছে — একটি ছেলের জীবনে বাবা শুধু অভিভাবক নন, তিনি আশ্রয়, সাহস, এবং নীরব ভালোবাসার সবচেয়ে বড় রূপ। বাবাকে বলা যায়নি “আমি তোমাকে ভালোবাসি”, কিন্তু তার প্রতিটি নিঃশ্বাসে এখনো বেঁচে আছে সেই না-বলা কথাগুলো। হয়তো বাবা শুনতে পান না, তবু ছেলেটা আকাশের দিকে তাকিয়ে আজও বলে — “বাবা, তুমি নেই, কিন্তু তোমার ভালোবাসা এখনো আমাকে বাঁচিয়ে রাখে।” 🕊️ Like this:Like Loading... Related Post navigation ১৪ই ফেব্রুয়ারি টিএসসির ভালোবাসা দিবস: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেম, ফুল আর অনুভূতির গল্প