পাশের বাড়ির সেই প্রিয় মানুষটা… আমার ছোটবেলার সঙ্গী। যাকে নিয়ে আমরা পুতুল খেলায় মেতে উঠতাম, দুষ্টুমি করতাম, প্রতিদিন একসাথে হেসে খেলতাম। ছোট্ট মনটা কখনো ভেবেছিলো না, একদিন সেই খেলা আমাদের জীবনের গল্পে বাঁধা দেবে। প্রথম প্রথম আমি তার প্রতি যে অনুভূতি, তা ছিল শুধুই বন্ধুত্বের। প্রতিদিন তাকে দেখা, প্রতিদিন তার সঙ্গে সময় কাটানো—সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু দিনশেষে, অচেনা ভাবে, আমার হৃদয় ধীরে ধীরে তার প্রতি মোর গভীর ভালোবাসায় ভরে গেল। আমি নিজেও বুঝতে পারিনি, কখন আমার ছোট্ট মনের খেলা প্রেমে রূপান্তরিত হয়েছে। একদিন হঠাৎ নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে, আমি শহরে চলে এলাম। শহরের ব্যস্ততায়, কাজের চাপের মাঝে, তাকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু খবর জানাতেও পারলাম না—ও কি সুখে আছে, কি করছে, কখনো বিয়ে হয়েছে কি না। বছর কয়েক পরে, যখন পুরনো বাড়িতে ফিরে এলাম, সব কিছুই বদলে গেছে। সে আগের মতো পাশের বাড়িতে নেই, সময় বদলে গেছে, মানুষ বদলে গেছে। শুধু পুরনো স্মৃতি আর হৃদয়ের গভীরে লুকানো ভালোবাসা বাকি। আমি শুধু বসে কেঁদেছি, অজানাতে, অপ্রকাশিত ভালোবাসার ব্যথায়। আজও আমি তাকে বলিনি, যে আমি তাকে কতটা ভালোবেসেছি। কেউ জানে না। সে যে জীবনটা বেছে নিয়েছে, আমি তা সম্মান করি। আর আমি শিখেছি—কখনো কখনো ভালোবাসা বলতে হয় না, শুধু অনুভব করাই যথেষ্ট। এই নীরব ভালোবাসা, এই অপ্রকাশিত আবেগ, আমার জীবনের একটি অমলিন অংশ। আর হয়তো, এই না বলা ভালোবাসা আমাকে শেখায়—কতটা গভীর মনোভাব এক সময়ই চুপচাপ হৃদয়ে রয়ে যায়, কিন্তু তা চিরকাল আমার মনে অম্লান থেকে যাবে। Like this:Like Loading... Related Post navigation চিঠিগুলো যে পৌঁছায়নি অভিনয়ের ভালোবাসা